empty
 
 
28.01.2026 09:10 AM
২৮ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

মঙ্গলবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল, একদিনেই এই পেয়ারের মূল্য মোট 170 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল দুই সপ্তাহ আগেও মার্কেটের অস্থিরতার মাত্রার কথা মনে আছে কি? কিন্তু ইউরোর মূল্য যেই সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বের হয়ে এসেছে, সেইসাথে পুরো মার্কেট পুনরুজ্জীবিত হয়ে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডলারের দরপতন চলতে থাকলে কোনো স্থানীয় সামষ্টিক প্রতিবেদন বা অন্য কোনো সংবাদের প্রয়োজন নেই। এই সপ্তাহেই ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার উপর শুল্ক হার বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছেন। চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির কারণে কানাডার উপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির দীর্ঘস্থায়ী অনুমোদন সংক্রান্ত কারণে এই ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। যারা এখনও এই ধরণের পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারেননি, তাদেরকে মানিয়ে নিতে হবে। এখন থেকে ট্রাম্প যেকোনো কারণে যখন খুশি শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দেবেন বা বাড়াবেন। বিশ্বজুড়ে সবাইকে হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্টের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করতে বলা হবে—এবং ট্রাম্প নিজে আজীবন সভাপতি থাকবেন এমন একটি "শান্তি কাউন্সিল" প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব মূলত এই সম্ভাবনা নির্দেশ করছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে সারাবিশ্বের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ করতে যাচ্ছেন।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

মঙ্গলবার 5-মিনিট টাইমফ্রেমে প্রথম বাই সিগন্যালটি বেশ দেরিতে গঠিত হয়েছিল। তবুও এটি থেকে লাভ করা সম্ভব ছিল। মনে রাখতে হবে যে শক্তিশালী প্রবণতাভিত্তিক মুভমেন্টের কিছু অসুবিধা রয়েছে। বিশেষত, এই মুভমেন্টগুলোতে প্রায় কোনোই পুলব্যাক দেখা যায় না, ফলে বিরল ক্ষেত্রে মুভমেন্টের বিরতির সময় মূল্য পুলব্যাক করে নির্ধারিত লেভেল বা এরিয়াগুলোতে ফিরে আসে, যাতে ট্রেডাররা বিরতির পরে পজিশন রি-এন্ট্রি করতে। এই ধরনের মুভমেন্ট দিনে-রাতে ক্রমাগত চলতেই থাকে।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, তাই আমরা আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি। মধ্যমেয়াদে বৈশ্বিক পর্যায়ে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি নেই, তাই ২০২৬ সালে ২০২৫ সালের শুরু থেকে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি, যা এই পেয়ারের মূল্যকে শিগগিরই 1.4000-এর দিকে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালা এখনও মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে।

বুধবার, নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, কারণ এই পেয়ারের মূল্য 1.3814-1.3833 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করেছে, যেখানে 1.3763 ও আরও নিচে দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3814-1.3833 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করলে নতুন লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3891-1.3912 এবং তার উপরের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য গুরত্বপূর্ণ লেভেলসমূহ: 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3574-1.3590, 1.3643-1.3652, 1.3763, 1.3814-1.3832। বুধবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডের বছরের প্রথম বৈঠকের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আমরা মনে করি, ফেডের বৈঠকের ফলাফলও হোয়াইট হাউস থেকে আসা সংবাদ প্রবাহের ছায়ার নিচে থেকে যাবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.