empty
 
 
03.02.2026 09:06 AM
৩ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবার সারাদিন ধরে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল, যা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইএএসএম উৎপাদন সূচকের ফলাফলের কারণে ঘটেছে। এই সূচকটি পূর্বাভাস ও আগের মাসের পরিসংখ্যানের তুলনায় অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল প্রদর্শন করেছে, যা অনিবার্যভাবে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। সামগ্রিকভাবে, কয়েক দিন ধরে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমেও স্পষ্ট যে এটি মূলত একটি কারেকশন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন মুদ্রার জন্য মৌলিক পটভূমির উন্নতি হয়নি বলেই বলা যায়। রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি নতুন বিক্ষোভের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার সাথে কারেন্সি মার্কেটের সম্পর্ক কিছুটা পরোক্ষ, তবুও এর তাৎপর্য আছে। ট্রাম্পকে নিয়ে আরও একটি স্ক্যান্ডাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার খোরাক হয়ে উঠছে, যদিও এবার এতে শুধু তিনি নয় আরও অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি জড়িত। এই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিমালা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এটি নিশ্চিতভাবেই বেশ আকর্ষণীয় সপ্তাহ হবে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, সোমবার বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে, তবে এগুলোর সবগুলোই ভুল সিগন্যাল ছিল। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ায় (যা ইতিপূর্বে স্পষ্ট সাপোর্ট বা রেসিস্ট্যান্স লেভেল হিসেবে কাজ করেছিল) পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই মার্কেটে অস্থিরতা শুরু হয়। এই পেয়ারের মূল্য তীব্র ওঠানামার শিকার হয়, যার ফলে গঠিত সিগন্যালগুলোর উপর ভিত্তি করে মুনাফা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। গতকাল ট্রেডিং করে খুব একটা সফল হওয়া যায়নি, তবে মার্কেটে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের কারেকশন অব্যাহত রয়েছে, তবে মনে হচ্ছে এই কারেকশন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করার মতো বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, তাই আমরা আশা করছি ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা নিকট ভবিষ্যতে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালা মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রবণতায় বাধা সৃষ্টি করে চলেছে, এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ঘটনাসমূহ ডলারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3574-1.3590-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড হলে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ মিলবে, যেখানে মূল্যের 1.3741-1.3751-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য বিবেচ্য লেভেলগুলো হলো: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3574-1.3590, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, 1.3975। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদক প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নেই, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সংক্রান্ত JOLTS প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। সার্বিকভাবে আজ মার্কেটে শান্ত মুভমেন্টের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যদি না ট্রাম্প আবারও চমকপ্রদ কিছুর ঘোষণা দেন।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.