আরও দেখুন
বুধবার GBP/USD পেয়ারের উল্লেখযোগ্য দরপতন ঘটেছে, যা পুরোপুরিভাবে মার্কিন ISM পরিষেবা খাতের কার্যক্রম সংক্রান্ত সূচকের ফলাফলের প্রভাবে হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত উৎপাদন খাতের সূচকটির মতো এই সূচকটির ব্যাপকভাবে ইতিবাচক ফলাফল দেখা যায়নি, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য কোনো ইতিবাচক প্রতিবেদনও ছিল না। উপরন্তু, যুক্তরাজ্য থেকেও কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। কার্যত ADP থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন ছাড়া এই সপ্তাহে শ্রমবাজার সংক্রান্ত আর কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, যা সাধারণত খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বা সঠিক হিসেবে বিবেচিত হয়নি। কর্মসংস্থানের শূন্যপদ সংক্রান্ত JOLTS প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, এবং শুক্রবার আরেকটি "শাটডাউনের" কারণে নন-ফার্ম পে-রোলস ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। শাটডাউন যেকোন সময় শেষ হতে পারে, কারণ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা সরকারি তহবিল নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, কিন্তু ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিক্স কয়েক দিন ছুটি নিয়েছে, তাই প্রতিবেদনগুলো আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। এদিকে ADP প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে বেসরকারি খাতে মাত্র 22,000 কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে—যা একেবারেই হতাশাজনক ফলাফল।
বুধবার ৫-মিনিট টাইমফ্রেমে সারাদিন কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। দিনের শেষের দিকে এই পেয়ারের মূল্য কেবল 1.3643-1.3652 এরিয়ায় পৌঁছায় এবং রাতের মধ্যে এই এরিয়া অতিক্রম করে নিম্নমুখী হয়। ফলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, তবে মনে রাখবেন আজ ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকের ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে শক্তিশালী এবং অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী কারেকশন অব্যাহত রয়েছে, তবে মনে হচ্ছে এই কারেকশন শীঘ্রই শেষ হবে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির প্রবণতার জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ নেই, তাই আমরা ২০২৫ সাল থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি, যা নিকট ভবিষ্যতে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালা মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করতে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে, এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান ঘটনাসমূহ ডলারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বৃহস্পতিবার নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, কারণ এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করেছে, এক্ষেত্রে মূল্যের 1.3574-1.3590-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3741-1.3751-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য বিবেচ্য লেভেলগুলো: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3574-1.3590, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, 1.3975। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা কার্যত দিনের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। সুদের হার নিয়ে আর্থিক নীতিমালা বিষয়ক কমিটির সদস্যদের ভোটের বিভাজন কেমন হবে ট্রেডাররা তা নিয়ে অনিশ্চিত, তাই এই বৈঠকের ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।