আরও দেখুন
বুধবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য সামান্য কারেকশন হয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যদিও ইউরোর তুলনায় পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির জন্য খুব বেশি কারণ ছিল না। ইউরোজোনে বেকারত্ব হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, অথচ যুক্তরাজ্য থেকে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য খবর আসে না। তবুও GBP/USD পেয়ারের মূল্য আরেকটি ডাউনওয়ার্ড ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা ট্রেডারদের পুনরায় সম্ভাব্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহে অনুরূপ সিগন্যাল বহুবার গঠিত হয়েছে এবং আমরা এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখতে পাইনি; তাই এবারও অনুরূপ পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মার্কেটকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে এবং কেবল এই কারণেই মার্কিন ডলারের দর আর কতদিন বাড়তে থাকবে তা কেউ বলতে পারছে না। ইরান ও মার্কিন মিত্রদের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা চলছেই, এবং গতকাল জানানো হয় যে ইরাক ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে স্থল অভিযান শুরু করেছে এবং সেখানে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। দেখা যাচ্ছে যে সংঘাত দিন দিন তীব্র হচ্ছে এবং দ্রুতই এই সংঘাত নিরসনের আশা কম। তাত্ত্বিকভাবে কেবল এই কারণেই মার্কিন ডলারের মূল্য আরও কয়েক দফায় বৃদ্ধি পেতে পারে।
বুধবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে যা কাজে লাগানো যেত। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া ব্রেক করে যাওয়ায় নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পেরেছেন। যারা এই সুযোগ মিস করেছেন তারা 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে হওয়া বাউন্সের পরে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পেয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই পেয়ারের মূল্য নিকটতম লক্ষ্যমাত্রা—1.3403-1.3407 এরিয়ায়—পৌঁছেছে। এই এরিয়া থেকে সংঘটিত বাউন্স কাজে লাগিয়েও শর্ট পজিশন থেকে মুনাফা অর্জন করা যেত।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য 'ভূ-রাজনৈতিক প্রবণতা' অনুসরণ করে চলেছে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো মৌলিক ভিত্তি নেই, তাই ২০২৬ সালেও আমরা ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্ততপক্ষে 1.4000 লেভেলের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি প্রায়শই ব্রিটিশ মুদ্রার পক্ষে ছিল না, এবং মার্কেটের ট্রেডাররাও প্রায়শই নেতিবাচক মার্কিন সংবাদগুলোকে উপেক্ষা করেছে, যা মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন; যেখানে মূল্যের 1.3365 এবং 1.3403-1.3407-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়ার নিচে কনসলিডেশন হলে নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3259-1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3203-1.3212, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, 1.3741-1.3751। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই; যুক্তরাষ্ট্রে কেবল জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আজ আবার মার্কিন ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে এবং মার্কেটে এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্ট মূলত 1.3319-1.3331 এরিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।