আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যেরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে ট্রেডাররা সম্পূর্ণভাবে সামষ্টিক-অর্থনৈতিক পটভূমি উপেক্ষা করেছে। শুক্রবার মার্কিন অর্থনীতির জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন: ননফার্ম পে-রোল এবং বেকারত্ব হার প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব গেলে। তবে এপ্রিল মাসে সৃষ্ট নতুন কর্মসংস্থানের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও ট্রেডাররা এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের কোনো প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। সারাদিনই মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে। তাই আমরা নতুন ট্রেডারদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। প্রথমত, 90% ক্ষেত্রে ট্রেডাররা সামষ্টিক অর্থনীতি ও মৌলিক প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করছে। দ্বিতীয়ত, কারেন্সি মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে দৈনিক মুভমেন্ট সৃষ্টি হতে পারে। তৃতীয়ত — দীর্ঘমেয়াদে ইউরো ও পাউন্ডের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যার মানে 2026 সালে এগুলোর দরপতনের চেয়ে দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা রাখা উচিত।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি বাই ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 রেঞ্জ অতিক্রম করেছিল, তবে সারাদিন জুড়ে এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা আবারও দুর্বল ছিল। ফলে পুরো দিনজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেও লং পজিশন থেকে মাত্র 20-25 পিপসে মুনাফা করা গিয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও গত তিন সপ্তাহ ধরে সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা ধারণা করছি যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা গুরুতরভাবে না বাড়লে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মার্কিন ডলারের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মাঝেমধ্যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও সামগ্রিকভাবে মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব অনেকটা কমে গেছে। দৈনিক ও সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে পরিলক্ষিত প্রবণতা অনুযায়ী ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি।
সোমবার যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 রেঞ্জের নিচে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার উপরে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3695-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে আজও এই পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেবল আবাসন বিক্রয় সংক্রান্ত একটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। সুতরাং, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বাদে আজ গুরুত্বপূর্ণ তেমন কিছুই নেই।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।