আরও দেখুন
বুধবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। ট্রেডাররা ব্রিটিশ পাউন্ড বিক্রি করে মার্কিন ডলার ক্রয়ের প্রতি আগ্রহী নয়। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাচ্ছে গত তিন দিনের মুভমেন্টের ফলে সামগ্রিক টেকনিক্যাল চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। 14 এপ্রিল থেকে (ঠিক এক মাস আগে) GBP/USD পেয়ারের মূল্যের 1.3450 থেকে 1.3640-এর মধ্যকার ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। হ্যাঁ, ঘন্টাভিত্তিক চার্টের জন্য সাইডওয়েজ চ্যানেলটি যথেষ্ট প্রশস্ত, তবু এটিই বাস্তবতা। এক মাস ধরে ট্রেডাররা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী হওয়ার জন্য কোনো নতুন কারণ খুঁজে পাননি। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাস্তবিক অর্থে উত্তেজনা-হ্রাস বা শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়নি; আর নিম্নমুখী প্রবণতার জন্য সত্যিকার অর্থে কোনো তীব্র উত্তেজনাও দেখা যাচ্ছে না (শুধু হুমকিই দেয়া হচ্ছে) এবং আলোচনা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত প্রত্যাশা বর্তমানে মার্কেটে তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করছে না। গতকাল প্রকাশিত মার্কিন উৎপাদক মূল্য সূচকও একরকম উপেক্ষিত হয়েছে। এছাড়া মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন, এবং গত সপ্তাহের শুক্রবার প্রকাশিত বেকারত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার বিষয়ক প্রতিবেদনও উপেক্ষিত ছিল।
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। শেষ সিগন্যালটি মঙ্গলবার গঠিত হয়েছিল যখন এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া অতিক্রম করে নিম্নমুখী হয়। নতুন ট্রেডাররা সহজেই সেই শর্ট পজিশনটি বুধবার পর্যন্ত হোল্ড করে রাখতে পারতেন। এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 1.3456-1.3476 এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও গত তিন সপ্তাহ ধরে সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা ধারণা করছি যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা গুরুতরভাবে না বাড়লে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মার্কিন ডলারের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মাঝেমধ্যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও সামগ্রিকভাবে মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব অনেকটা কমে গেছে। দৈনিক ও সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে পরিলক্ষিত প্রবণতা অনুযায়ী ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা ভাবতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751।আজ যুক্তরাজ্যে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের জিডিপি ও শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা সম্ভবত উপেক্ষিত থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।