আরও দেখুন
EUR/USD পেয়ারের মূল্য তিন সপ্তাহ পর নির্ধারিত রেঞ্জ থেকে বের হয়ে 1.1584-1.1666 এরিয়ার মধ্যে অবস্থান করছে। শুক্রবার এই পেয়ার প্রায় 120 পিপস দরপতনের শিকার হয়ে রেঞ্জ থেকে বের হয়ে এসেছিল। তবে সোমবার মার্কিন ডলারের মূল্যের উত্থান অব্যাহত থাকেনি — কারণ এর জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো ভিত্তি ছিল না। হায়ার টাইমফ্রেমগুলোতে (দৈনিক, সাপ্তাহিক) দেখা যাচ্ছে যে সাম্প্রতিক সপ্তাহ ও মাসগুলোতে পূর্ববর্তী দরপতনের তুলনায় মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা তুলনামূলকভাবে খুবই সংক্ষিপ্ত ছিল। তাই আমরা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের তীব্র মূল্য বৃদ্ধির আশা করছি না। পৃথক ঘটনা (ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল) সময়ে সময়ে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে ও মার্কিন ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা উস্কে দিতে পারে—তবু প্রতিটি এমন ঘটনা থেকে কেবলই এই বিষয়টিই স্পষ্ট হয় যে মার্কিন ডলারের মূল্যের পূর্ণমাত্রার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার উপর নির্ভর করা যায় না। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হয়েছে। ট্রেন্ডলাইনের অবস্থান অনুযায়ী মার্কেটে বিয়ারিশ প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু আগের মতোই আমরা ধারণা করছি যে মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির জন্য স্থায়ী সমর্থন হিসেবে সামষ্টিক, মৌলিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কেটে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।
সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুইটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এই পেয়ারের মূল্য প্রথমে 1.1527-1.1531 এরিয়া উপরে থেকে নিচে ব্রেক করে পরবর্তীতে আবার নিচ থেকে উপরে উঠেছিল। উভয় ক্ষেত্রেই ট্রেডাররা খুব বেশি উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখতে পায়নি, তবে এই পেয়ারের মূল্য অন্তত নির্ধারিত দিকে 15 পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করায় ওপেন করা ট্রেড থেকে কোনো লোকসান হয়নি।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের সমাপ্তি ঘটেছে, এবং তিন সপ্তাহের স্থবিরতার পরে নিম্নমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হয়েছে, কিন্তু মার্কিন ডলারের আরও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হয় তার ওপর নির্ভর করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন যে ইরানের সঙ্গে শিগগিরই একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে। যদি এই ধরনের কোনো বাস্তবায়িত হয়, তাহলের মার্কিন ডলারের দরপতন শুরু হবে।
মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হয় তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1455-1.1474 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1594 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908। মঙ্গলবার ইউরোজোন বা যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না। আজ জার্মানিতে শিল্প উৎপাদন ও বাণিজ্য ঘাটতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ADP কর্মসংস্থান ও আবাসন বিক্রয় সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রতিবেদনগুলোর কোনোটিই কারেন্সি মার্কেটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।