আরও দেখুন
মঙ্গলবারে বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, এবং সেগুলোর কোনোটিই তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। জার্মানিতে আজ শিল্প উৎপাদন এবং ট্রেড ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, কিন্তু প্রাথমিকভাবে সেগুলোর ফলাফল মার্কেটে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কেটে গত তিন সপ্তাহ ধরে নির্দিষ্ট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং ট্রেডাররা কার্যত সকল প্রতিবেদন ও ইভেন্ট উপেক্ষা করছে। শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল আলোচিত ননফার্ম পেরোল প্রতিবেদনের ফলাফলই মার্কেটে ১০০ পিপসের বেশি ওঠানামা ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে EUR/USD পেয়ারের মূল্য নির্ধারিত রেঞ্জ থেকে বের হয়ে আসে। সুতরাং, জার্মানির প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে এমন সম্ভাবনা কম। একই কথা মার্কিন প্রতিবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সাপ্তাহিক এডিপি প্রতিবেদন এবং বিদ্যমান বাড়ির বিক্রয় সূচকের ফলাফল স্পষ্টতই সেই ধরনের প্রতিবেদন নয় যার জন্য ট্রেডাররা অপেক্ষা করছে। এই সপ্তাহের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে আগামীকাল মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য কিছুই নেই। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, অন্যদিকে ফেডারেল রিজার্ভ এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠক আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্ধারিত রয়েছে। তাই, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এই মুহূর্তে মুদ্রানীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। তারা "নীরব" থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। এই সপ্তাহে ইসিবি কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে এই সিদ্ধান্ত থেকে ইউরো খুব বেশি সুবিধা পাবে না।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হতাশাজনকই রয়ে গেছে, কারণ ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র আবারও সংঘাত শুরুর এবং আলোচনায় ব্যর্থতার কাছাকাছি চলে এসেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তা "খুবই সফল" হচ্ছে। তবে, কূটনৈতিক উদ্যোগের সাফল্যের ব্যাপারে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বরং ঠিক তার উল্টোটা ঘটছে। উভয় পক্ষই নিয়মিতভাবে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণের মধ্য দিয়ে নতুন সপ্তাহ শুরু হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে, কারণ কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। আজ ইউরো 1.1527-1.1531 এরিয়া থেকে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যাবে। শুক্রবার মার্কিন প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কেটে জোরালো প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই কারেন্সি মার্কেটের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।