আরও দেখুন
শুক্রবারের ট্রেডিংয়ে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের কারেকশন হয়ে মূল্য সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ইউরো মূল্য বৃদ্ধির মাত্রা যথেষ্ট দুর্বল ছিল। সার্বিকভাবে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ইউরো দরপতনের শিকার হচ্ছে। তবে এটি একটি প্রচলিত মতামত যেটিকে আমরা সমর্থন করি না। আমাদের ধারণা মূলত স্পেকুলেটিভ-টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে ইউরোর দরপতন হচ্ছে। সহজভাবে বলা যায়, মধ্যমেয়াদে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হয়েছে, যা বড় ট্রেডাররা কাজে লাগাচ্ছে। আমরা ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিতের প্রভাবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাবে তা মনে করি না। উপরন্তু, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যেই সুদের হার বাড়িয়েছে, তবুও ট্রেডাররা তা উপেক্ষা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলও মোটামুটিভাবে ইতিবাচক ছিল—কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সহ। তবু জোর দিয়ে বলা যায় যে 2026 সালে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির মূল কারণ—অর্থাৎ ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা—অন্তত কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু শুধুমাত্র প্রথম সিগন্যালটি কার্যকর ছিল। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশন শুরুর ঠিক আগে এই পেয়ারের মূল্য 1.1354-1.1363 রেঞ্জ থেকে বাউন্স করে নতুন ট্রেডারদের লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছিল। 1.1413 লেভেল লেভেল থেকে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল যা ভুল প্রমাণিত হয়, পরবর্তী বাই সিগন্যালটিও একই রকম ভুল ছিল। ফলে শেষ দুইটি ট্রেড থেকে লোকসান হয়েছে, কিন্তু প্রথমটি থেকে মুনাফা হয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পরেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ট্রেডারদের কাছে মার্কিন ডলার ক্রয়ের কারণ কমে গেছে। তবুও ট্রেডাররা এই বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে ইউরোর জন্য ইতিবাচক প্রায় সকল কারণ উপেক্ষা করছে। সুতরাং বর্তমানে কোনো স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1354-1.1363 রেঞ্জের নিচে স্থিতিশীল হয় তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1275-1.1292 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1354-1.1363 রেঞ্জ থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1413 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আজ আবারও মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে, যা বিবেচনায় রাখা উচিত।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1292, 1.1354-1.1363, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, এবং 1.1830-1.1837। সোমবারের একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট হিসেবে ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হবে; তবে আমরা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে ইসিবি ইতোমধ্যেই আর্থিক নীতিমালা কঠোর করতে শুরু করেছে, যে সিদ্ধান্তের প্রতি ট্রেডারদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তাই লাগার্ডের বক্তব্য সম্ভবত মার্কেটে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।