আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের দরপতন অব্যাহত ছিল, যা টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী যুক্তিযুক্ত ছিল। ব্রিটিশ পাউন্ড এক সপ্তাহ ধরে দরপতনের শিকার হচ্ছে এবং এ সময় একটি স্পষ্ট প্রবণতা গঠিত হয়েছে যা ট্রেন্ডলাইন দ্বারা সমর্থিত। অতএব শুক্রবার পাউন্ডের দরপতনের জন্য সব ভিত্তিই ছিল। গতকাল যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক বা মৌলিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, কিন্তু যাঁরা নিয়মিত আমাদের আর্টিকেল পড়ে থাকেন তাঁরা বুঝতে পারবেন যে মার্কেটে সবসময় যৌক্তিকতা এবং ধারাবাহিকতা অনুযায়ী মুভমেন্ট ঘটে না। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) বৈঠকও ব্রিটিশ মুদ্রার জন্য প্রাসঙ্গিক ছিল না। সেইসাথে, ইসিবির বৈঠকের ফলাফল ডোভিশ বা নমনীয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, এবং ইসিবির ফলাফল ঘোষণার পরে না হয়ে সকালেই ইউরো ও পাউন্ডের দরপতন শুরু হয়েছিল। ফলে ইউরো এবং পাউন্ডের মূল্য উভয়ই চলমান প্রবণতার মধ্যে বিশুদ্ধ টেকনিক্যাল মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে।
বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি সেল ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, এবং মার্কিন সেশনে মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া অতিক্রম করেছে। ফলে নতুন ট্রেডাররা গতকাল শর্ট পজিশন ওপেন করে দিনের শেষে প্রায় 60 পিপস মুনাফা অর্জন করতে পারতেন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির শেষে একটি কারেকশনের প্রয়োজন ছিল। ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য কতদিন কমতে থাকবে তা বলা কঠিন, তবে ট্রেডারদের জন্য ট্রেন্ডলাইনটি একটি ভাল রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করছে। তাই যতক্ষণ এই পেয়ারের মূল্য এই লাইনের উপরে কনসলিডেট না করে, ততক্ষণ নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3259-1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। শুক্রবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ের পরিষেবা এবং উৎপাদন খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচক প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তবে বর্তমানে ট্রেডাররা মূলত টেকনিক্যাল মুভমেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, ফলে এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল সহজেই উপেক্ষিত হতে পারে। ব্রিটেনে খুচরা বিক্রয় সূচকও প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে, এবং এই সূচকের প্রভাবেও মার্কেটে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।