empty
 
 
17.08.2026 07:00 AM
১৭ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 1.1584-এর লেভেলে ফিরে আসে এবং সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকে। আমরা বারবার এমন অনেক কারণের কথা উল্লেখ করেছি যা ইউরোকে সহায়তা করছে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে কাজ করছে। তাই, সুনির্দিষ্ট কোনো তাৎক্ষণিক কারণ ছাড়াও ইউরোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। তবে, শুক্রবার প্রকৃতপক্ষে কিছু কারণ বিদ্যমান ছিল। ইউরোজোনের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদনটি ফলাফল ট্রেডারদের দৃষ্টি খুব একটা আকর্ষণ করতে পারেনি; এর ফলাফল ছিল অনেকটাই সাধারণ, যেখানে প্রান্তিক ও বার্ষিক—উভয় সূচকের ফলাফলই পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনই এই পেয়ারের ক্রেতাদের পক্ষে কাজ করেছে, কারণ এগুলোর ফলাফল প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে অনেক কম ছিল। জুলাই মাসে দেশটিতে খুচরা বিক্রয় সূচক 0.6% হ্রাস পেয়েছে (যেখানে +0.1% বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল), এবং আগস্ট মাসে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের 'কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স' বা ভোক্তা আস্থা সূচক 51-তে পৌঁছেছে (যেখানে ট্রেডাররা 54.5-এ পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছি)। ফলে, ধীরগতিতে হলেও মার্কিন ডলারের দরপতন হচ্ছে। আমাদের মতে, মার্কিন ডলারের এই দরপতন অব্যাহত থাকবে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এশিয়ান ট্রেডিং সেশনের সময়, এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশন শুরুর সময়ও এই পেয়ারের মূল্য সিগন্যাল গঠনের জায়গা থেকে খুব বেশি দূরে যায়নি, তাই ট্রেডাররা নিরাপদে 'লং পজিশন' ওপেন করতে পারতেন। মার্কিন সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তবে উইকেন্ডে মার্কেট বন্ধ হওয়ার আগে নতুন পজিশন ওপেন করাটা খুব একটা যুক্তিযুক্ত ছিল না। 'লং পজিশন' থেকে প্রায় 35 পিপস মুনাফা পাওয়া গিয়েছিল।

সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের ট্রেডাররা ইউরোর পক্ষে থাকা প্রায় সব ইতিবাচক কারণ উপেক্ষা করেছে, তাই এখন আমরা ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি।

সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1527-1.1531-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়া ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1275, 1.1366-1.1377, 1.1461-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, এবং 1.1745-1.1754। সোমবার ইউরোজোন বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই আমরা "বিরক্তিকর সোমবারের" আশা করতে পারি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কারেন্সি মার্কেটে অস্থিরতার মাত্রা কম ছিল এবং আজও তা কম থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.