আরও দেখুন
শুক্রবার ঘণ্টাভিত্তিক চার্টে টাইমফ্রেমে বিদ্যমান আপওয়ার্ড চ্যানেলের মধ্যে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। অর্থাৎ, এমনকি ঘণ্টাভিত্তিক চার্টেও টেকনিক্যাল বিভিন্ন বিষয় বর্তমানে ব্রিটিশ পাউন্ডের আরও মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কিন ডলারের জন্য বাড়তি সংকট তৈরি করেছে; কারণ খুচরা বিক্রয় এবং ভোক্তা আস্থা সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ফলাফল উঠে এসেছে। ফলে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ক প্রধান সব প্রতিবেদনের ফলাফল দুর্বল ছিল। সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক মুদ্রানীতি কঠোর করার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং দীর্ঘমেয়াদেও তা ক্রমশ কমছে। এই সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে জুলাই মাসের মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যেটির ফলাফল এই শরতে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড কর্তৃক মুদ্রানীতি কঠোর করার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। সুতরাং, এই সপ্তাহে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির জন্য আরেকটি সহায়ক কারণ যুক্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে, আমরা এখনও মনে করি যে GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3900 লেভেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে; উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের শুরুর দিকে এই লেভেলে পৌঁছানোর মাধ্যমে পাউন্ডের মূল্য গত ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেভেলে পৌঁছেছিল।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। রাতের শুরুর দিকেই এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে, যার ফলে নতুন ট্রেডাররা ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের শুরুতেই 'লং পজিশন' ওপেন করার সুযোগ পান। দিনজুড়ে এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য প্রায় 50 পিপস বৃদ্ধি পায়, ফলে ট্রেডটি যখনই ক্লোজ করা হোক না কেন, তা থেকে বেশ ভালো মুনাফা অর্জিত হয়।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে গত মাস থেকেই এই পেয়ারের মূল্য কনসলিডেশন চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল বেশ দুর্বল ছিল। শুধুমাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য আপওয়ার্ড চ্যানেলের নিচে কনসলিডেট করলে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3631-1.3641-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। সোমবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; তাই মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকার এবং উল্লেখযোগ্য কোনো মুভমেন্ট না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।