আরও দেখুন
সোমবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সামান্য পুলব্যাক দেখা গেলেও, সারাদিন জুড়ে মার্কেটে অস্থিরতার মাত্রা অত্যন্ত কম ছিল। তাই, এই পেয়ারের মূল্যের উল্লেখযোগ্য মুভমেন্টের বিষয়ে আলোচনা করাটা খুব একটা অর্থবহ নয়। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে 30-40 পিপসের ওঠানামা মার্কেটের স্বাভাবিক নয়েজের মধ্যেই পড়ে। সুতরাং, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা হতাশাজনক খবরের প্রভাবে মার্কেটে জোরালো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে—এমনটাও বলা যায় না। GBP/USD পেয়ারের মূল্য এখনও স্পষ্টভাবে একটি আপওয়ার্ড চ্যানেলের মধ্যেই অবস্থান করছে, তাই এই সপ্তাহেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার কার্যকর সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া, এই মুহূর্তে ইরানের হুমকিগুলোকে খুব বেশি গুরুত্বের সাথে না নেওয়াই শ্রেয়, কারণ এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি সম্পর্কে তেহরান নিশ্চয়ই অবগত। এই সপ্তাহে (বিশেষ করে মঙ্গলবার ও বুধবার) ট্রেডারদের যুক্তরাজ্যে প্রকাশিতব্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ওপর নজর দেওয়া উচিত। আজকের বেকারত্ব বিষয়ক প্রতিবেদনের পর আগামীকাল মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনটির ফলাফল আগামী মাসগুলোতে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। ফলে, নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডে এন্ট্রি করার মতো কোনো সুযোগ ছিল না। এমনিতেই এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতা বেশ কম ছিল; আর এমন পরিস্থিতিতে কোনো সিগন্যাল পাওয়া গেলেও তা থেকে লাভ করা সম্ভব হতো না।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে গত মাস থেকেই এই পেয়ারের মূল্য কনসলিডেশন চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল বেশ দুর্বল ছিল। শুধুমাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য আপওয়ার্ড চ্যানেলের নিচে কনসলিডেট করলে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3631-1.3641-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার, বেকার ব্যক্তির সংখ্যা এবং মজুরি বৃদ্ধির হারের পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণ খাত বিষয়ক প্রতিবেদন এবং সাপ্তাহিক এডিপি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে আমরা কেবল যুক্তরাজ্যের বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনটির কথাই বিশেষভাবে উল্লেখ করতে পারি।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।