আরও দেখুন
শুক্রবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং এর মধ্যে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ডিউরেবল গুডস অর্ডার বিষয়ক প্রতিবেদনই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, এই প্রতিবেদনটির গুরুত্ব কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। সাম্প্রতিক সপ্তাহ ও মাসগুলোতে ট্রেডাররা অধিকাংশ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টও উপেক্ষা করেছে। উল্লেখ্য যে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক দুইবার আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার পদক্ষেপ ইউরোর ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি; অথচ গত এক মাস ধরে কেবলই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই, মার্কিন ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত প্রতিবেদনটির ফলাফল যদি শক্তিশালী হয়, তবে মার্কিন ডলারের দর আবারও বাড়বে। আর প্রতিবেদনটির ফলাফল যদি দুর্বলও হয়, তবুও মার্কিন ডলারের দরপতন হবে—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। মার্কেটে ব্যাপকভাবে মার্কিন ডলার ক্রয়ের যে জোয়ার চলছে, তা থিতিয়ে এলেই কেবল ডলারের দরপতন শুরু করবে।
শুক্রবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের সদস্য জন উইলিয়ামস ও বেথ হ্যাম্যাক এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী সদস্য বরিস ভুজচিচের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। ফেডারেল রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান বেশ স্পষ্ট: উচ্চ মূল্যস্ফীতির মোকাবিলায় মার্কিন সংস্থাটি মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে চায়। ইসিবি এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের অবস্থানও এক্ষেত্রে পরিষ্কার। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইসিবি আর্থিক নীতিমালার কঠোরকরণ অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত; একইভাবে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডও একই কারণে নীতিমালা কঠোর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আপাতত এই বিষয়গুলোর গুরুত্ব খুব একটা নেই, কারণ বিনিয়োগকারীরা এখন কেবলই মার্কিন ডলার কিনে চলেছেন।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদলের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে এমন ইতিবাচক ফলাফলের বিষয়ে ট্রেডারদের মধ্যে কোনো আস্থা নেই। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেলে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটে। অথচ গত তিন সপ্তাহ ধরে মার্কিন ডলারের দর ক্রমাগত বাড়ছে।
চলতি সপ্তাহের শেষদিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মন্থর দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ এই নিম্নমুখী প্রবণতা এখন আর মৌলিক, ভূ-রাজনৈতিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করছে না । আজ ইউরো 1.1366–1.1377 এবং পাউন্ড 1.3259–1.3267 এবং 1.3175–1.3180 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আজ মার্কেটে স্বল্প মাত্রার ভোলাটালিটি বা অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।